সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ। নীল আকাশের নীচে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। যেন হলুদ বরণে সেজেছে প্রকৃতি। দূর থেকে মনে হয় মাঠ যেন হলুদের চাদরে মোড়ানো। সরিষার ফুল থেকে মৌমাছিসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়, পাখির গুণ গুণ শব্দ, ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ২৯৮ হেক্টার জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বারী-১৪ জাতের সরিষা বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, নিড়ানী ও কীটনাশকের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। স্বল্প সময়ে কম খরচে সরিষা চাষ করা যায়। ফলে জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। আমন ও বোরো আবাদের মাঝে যে সময় থাকে সেই সময় পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছে।
জালকাটা গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম, আবু তালেব, সোহেল মিয়া, চান মিয়া, ফরিদ মিয়ার সাথে কথা হলে জানান, ঘন কুয়াশা থাকলেও এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছি। সারিষা দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই কম খরচে সরিষা চাষে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে আমাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শ্রীবরদী উপজেলায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক সময়ে প্রণোদনা সহায়তা প্রদান ও নিয়মিত মনিটরিং করার কারনে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারনে আশা করছি গত বছরের তুলনায় ফলনও বেশি হবে। আমন ধান কাটার পর কৃষকরা সেই জমিতে সরিষা চাষ করে ৭৮-৮০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তুলে। আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ের পতিত জমিতে সরিষা চাষ করায় একদিকে যেমন জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় অপরদিকে কৃষকরা অধিক লাভবান হয়।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনীষা আহমেদ বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ায় কৃষি কাজে আগ্রহ বেড়েছে। প্রণোদনা পাওয়ায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে কৃষকরা আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হবে।
শ্রীবরদী প্রতিনিধি: 










