ঐতিহ্যবাহী জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-এর শ্রেণি কক্ষের অভ্যন্তরে কতিপয় শিক্ষার্থীর অশ্লীল ও অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এই লজ্জাজনক ঘটনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের দুর্বল ম্যানেজিং কমিটি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষকদের ব্যর্থতার অভিযোগে ২৩ নভেম্বর রোববার সকালে বিদ্যালয় গেইট সংলগ্ন এলাকায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রথাগত সম্মান রক্ষায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে সকাল ১০টা থেকে গেইটের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘বিদ্যালয়ের গৌরব রক্ষা করো’, ‘অবিলম্বে ম্যানেজিং কমিটির পদত্যাগ চাই এবং দায়িত্বহীন শিক্ষকের শাস্তি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠের শ্রেণি কক্ষের মতো পবিত্র স্থানে এমন অনৈতিক ঘটনা ঘটেছে মূলত শিক্ষকদের নজরদারির অভাবে এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে।
প্রাক্তন ছাত্র নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্ররা বলেন, ‘জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন লজ্জাজনক ঘটনা গোটা জেলার শিক্ষাজগতে কালিমা লেপন করেছে। শিক্ষকরা তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সাথে ঘটনার পর ম্যানেজিং কমিটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যা তাদের দুর্বলতা ও অযোগ্যতা প্রমাণ করে।’
তিনি আরো বলেন, এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেজন্য মূল অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪ দফা মূল দাবি প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষ থেকে বিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে নিম্নলিখিত ৪টি দাবি পূরণের আহ্বান জানানো হয়: শ্রেণি কক্ষে ঘটে যাওয়া অশ্লীল কর্মকাণ্ডের দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অন্য শিক্ষার্থীরা সতর্ক হয়। বিদ্যালয়ের বর্তমান দুর্বল ম্যানেজিং কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলাকারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের চাকরিবিধি অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, মানববন্ধনের শেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত পূরণ করা না হয় এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে বৃহত্তর ছাত্র সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধন শেষে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
শেরপুর প্রতিনিধি: 









