Dhaka ০৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
শেরপুরে গরিব-অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ শেরপুরে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার শেরপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত শেরপুরে মাসব্যাপী অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত নকলায় কৃষক নিহতের অভিযোগে আটক ৩ শেরপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলামের সাথে সরকারি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মতবিনিময় সভা শেরপুরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিনম্র শ্রদ্ধায় শেরপুরে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত নকলায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত

শেরপুরে ভুল চিকিৎসায় সিজারের রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান অপারেশনের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে শেরপুর পৌরসভার নারায়নপুর (সদর হাসপাতাল রোড) এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মৃত রোগীর মোছাঃ মাহিয়া রশিদ আশার (২৪) শেরপুর সদর উপজেলার কুসুমহাটি এলাকার মোঃ জাহিদ হাসানের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী।

এঘটনার পর রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভ, পুলিশের তালা, ভাঙচুর ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা হওয়ায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেন স্বজনরা। ফলস্বরূপ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর শনিবার দুপুরে এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসক মোঃ লুৎফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মোছাঃ মাহিয়া রশিদ আশার দ্বিতীয় সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মাহিয়া রশিদ আশা মারা যান। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে এভার কেয়ার হাসপাতালের গেইটসহ ভিতরের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া এড়াতে এবং হাসপাতালের সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের গেইটে তালা বন্ধ করে দেন। নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার।

বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে মৃত রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নেন। সমঝোতার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মাহিয়া রশিদ আশার লাশ দাফন করা হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভুল চিকিৎসা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলেও, মামলা না হওয়ায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে গেল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শেরপুরে গরিব-অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ

শেরপুরে ভুল চিকিৎসায় সিজারের রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

Update Time : ১০:২৩:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান অপারেশনের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে শেরপুর পৌরসভার নারায়নপুর (সদর হাসপাতাল রোড) এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মৃত রোগীর মোছাঃ মাহিয়া রশিদ আশার (২৪) শেরপুর সদর উপজেলার কুসুমহাটি এলাকার মোঃ জাহিদ হাসানের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী।

এঘটনার পর রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভ, পুলিশের তালা, ভাঙচুর ও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা হওয়ায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেন স্বজনরা। ফলস্বরূপ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয় বলে জানা যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর শনিবার দুপুরে এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসক মোঃ লুৎফুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মোছাঃ মাহিয়া রশিদ আশার দ্বিতীয় সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মাহিয়া রশিদ আশা মারা যান। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে এভার কেয়ার হাসপাতালের গেইটসহ ভিতরের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া এড়াতে এবং হাসপাতালের সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের গেইটে তালা বন্ধ করে দেন। নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার।

বিক্ষোভ চলাকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক সমিতি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে মৃত রোগীর স্বজনরা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নেন। সমঝোতার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মাহিয়া রশিদ আশার লাশ দাফন করা হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভুল চিকিৎসা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলেও, মামলা না হওয়ায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়ালে থেকে গেল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।