শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাতে আদিবাসী নারীর ভুয়া উত্তরাধিকার সাজিয়ে জমি লিখে নিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে। এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মেষকুড়া গ্রামের বাড়িতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগীর সহোদর বোন বিথিলা চাম্বুগং।
সংবাদ সম্মেলেনে তিনি বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত নারী। আমার সহোদর বোন বন্দনা চাম্বুগং একজন নারী নেত্রী। বর্তমানে উপজেলার ডালুকোনা গ্রামের মাইন উদ্দিন, আব্দুল খালেক, আব্দুস সালাম ও জীবিতা মারাক পরস্পর যোগসাজসে মিথ্যা মামলায় দিয়ে হয়রানি, বন্দনার নামে নামখারিজসহ জমির প্রকৃত বৈধতা থাকা সত্বেও ভুয়া উত্তরাধিকার বানিয়ে ৪ একর ৯২ শতাংশ জমি লিখে নিয়ে নানা অপকৌশল ও রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির হুমকিসহ নানা নাজেহাল করছেন।
উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্দারুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মিজাজ মারাকের ৪ একর ৯২ শতাংশ জমি বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী ৩ নং খতিয়ানে ‘খ’ তফসিলভুক্ত হয়। যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট একাধিক জায়গা থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী অবমুক্ত আইনে ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মিজাজ মারাক এর নাতির ঘরের পুতি বন্দনা চাম্বুগং এর নামে ওই জমির খারিজ সম্পন্ন হয়। মোট ৪ একর ৯২ শতাংশ জমির মধ্যে ৬৫ শতাংশ জমি ১৯৮২ সালে খুকুমনি সাংমাকে মৃত মিজাজ মারাকের কন্যা দেখিয়ে তার কাছ থেকে কিনে নেন জালাল উদ্দিন। ১৯৯৪ সালে মাইন উদ্দিন ও তার পিতা আব্দুল খালেক একই খতিয়ানভুক্ত জমিতে মিলি মারাককে নাতি হিসেবে উত্তরাধিকারী বানিয়ে তার কাছ থেকে এক একর ৮৫ শতাংশ জমি কিনে নেন। ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (টিডব্লিউ) এর নালিতাবাড়ী শাখার চেয়ারম্যান মি. কোপেন্দ্র নকরেক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদে মিজাজ মারাক এর উত্তরাধিকারী দেখানো হয় পুতি বন্দনা চাম্বুগংকে। ২০২৩ সালের ১৮ জুন প্রদত্ত সনদ অনুযায়ী শৈক্যমনি মারাকের উত্তরাধিকারী দেখানো হয় পুতি জীবিতা মারাককে। ২০২৪ সালের ৩১ মে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মি. লুইস নেংমিনজা প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদে দেখা যায়, মিজাজ মারাকের উত্তরাধিকারী হয়েছেন বন্দনা চাম্বুগং। অন্যদিকে, শৈক্যমনি মারাকের উত্তরাধিকারী হয়েছেন জীবিতা মারাক।
একইভাবে ২০২৪ সালের ১০ জুন পোড়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মাও: জামাল উদ্দিন প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদে বন্দনা চাম্বুগংকে মিজাজ মারাকের উত্তরাধিকারী এবং জীবিতা মারাককে শৈক্যমনি মারাকের উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট জীবিতা মারাক নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে এসএ ২৭ নং খতিয়ানে উল্লেখিত জমির মালিক মিজাজ মারাক তার মায়ের নানী নন এবং তার মা লিমি মারাক ওই জমির উত্তরাধিকারী নন বলে ঘোষণা করেন। এমনকি ওই খতিয়ানে উল্লেখিত ৪ একর ৯২ শতাংশ জমিতে তাদের কোন ভোগদখল নেই বলেও ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আরো একটি এফিডেভিট করেন জীবিতা মারাক। এই এফিডেভিটে আগের এফিডেভিট অস্বীকার করে নিজেকে উত্তরাধিকার দাবী করেন।
সম্প্রতি বন্দনার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়ে জীবিতা মারাক পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায় বন্দনাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভুয়া ঘটনা সাজিয়ে বন্দনার বিরুদ্ধে ওই মামলা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা মামলা ও জমি আত্মসাতের মতো হয়রানির হাত থেকে রেহাই পেতে চায় বন্দনার বোন বিথিলা চাম্বুগং।
আমিরুল ইসলাম 









