তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিতে করে কর্মস্থলে ফিরতে যাত্রীরা ভিড় করছেন সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেরপুর-ময়মনসিংহ রুটে হঠাৎ সিএনজি ভাড়া দিগুণ নেয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
তারা বলছেন, ঈদের আগেও ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ময়মনসিংহ থেকে শেরপুরে এসেছেন। তাহলে ঈদের পর কেন সেই ভাড়া বেড়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা হবে। এই রুটের সিএনজির যাত্রীরা আরও জানান, ঈদের দুই দিন ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি চাইতে পারে। কিন্তু ঈদের পাঁচ দিন পরও ভাড়া দিগুণ এটা মেনে নেয়া যায় না।
গার্মেন্টস কর্মী রোকসানা আক্তার (৩৫) বলেন, ‘আমি ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করি। এদিকে ঈদের ছুটি শেষ এবং আগামীকাল অফিস খোলা। তাই আজকেই ময়মনসিংহে ফিরতে হবে। তবে সিএনজির ভাড়া হঠাৎ করে দিগুণ বেড়েছে। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। ভাড়া বাড়তি হলে আমাদের জন্য কষ্টকর।’
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ করেন আক্তাম হোসেন (৩৮)। তিনি জানান, ঈদের আগে বেতন বোনাসের টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য ঈদ কেনাকাটা করেছেন। এখন পকেটে টাকা কম। এদিকে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া ১৫০ থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা। ঈদের পঞ্চম দিনেও ভাড়া বেশি নেয়া অযৌক্তিক। তাই তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির অনুরোধ করেন।
এদিকে অভিযোগ স্বীকার করে সিএনজি চালক আশরাফ আলী (৪২) বলেন, ‘ময়মনসিংহে যাওয়ার সময় যাত্রী পাওয়া যায়। কিন্তু আসার সময় যাত্রী না থাকায় খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়। এদিকে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
চালক ফরিদ মিয়া (৪৫) বলেন, ‘ঈদে ঢাকা থেকে অনেক ব্যাক্তিগত গাড়ি এসেছে। তাই সিএসজি গ্যাস স্টেশনগুলোতে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সিলিন্ডার রিফিল করতে পারছি না। অথচ দিন শেষে ঠিকই মালিক জমা দিতে হচ্ছে। তাহলে আয় না হলে কীভাবে চলবো। তাই শেরপুর ময়মনসিংহ রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের আগে ও পর থেকে শেরপুরের বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন। বাড়তি ভাড়া নেয়া মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে।’
Reporter Name 









