Dhaka ০৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
শ্রীবরদীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত শেরপুরের ৩টি আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ নকলায় বৃদ্ধের ঝুঁলন্ত লাশ উদ্ধার শেরপুরে চার অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের হানা: ৯ লাখ টাকা জরিমানা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে শেরপুরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার শেরপুরে ই-বেইল বন্ড সিস্টেম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: শেরপুর-১ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩ প্রার্থীকে শোকজ শেরপুরে বাদল ও খালেক হত্যা মামলার প্রধান আসামির জামিন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন শেরপুরে কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, বাবা আটক

পরকালে হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে হবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৪৯৬ Time View

ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা জঘন্যতম অপরাধ। পবিত্র কোরআনের ভাষায়- পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার মতো। ইরশাদ হয়েছে, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণ ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে দুনিয়ার সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সুরা মায়েদা: ৩২)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা।’ (বুখারি: ৬৮৭১, মুসলিম: ৮৮) অপর হাদিসে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলার নিকট পুরো বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিকতর সহজ একজন মুসলিম হত্যা অপেক্ষা।’ (তিরমিজি: ১৩৯৫; নাসায়ি: ৩৯৮৭; ইবনু মাজাহ: ২৬৬৮)

আল্লাহ তাআলার আদালতে কিয়ামতের দিন সকল অপরাধের বিচার হবে। সেখানে আল্লাহর হকের যেমন বিচার হবে, তেমনি বান্দার হকেরও বিচার হবে। বান্দার হক সম্পর্কিত যত মোকদ্দমা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার হবে রক্তপাত ও হত্যার। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- أَوَّلُ مَا يُقْضূى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকাদ্দমার ফয়সালা হবে, তা হলো রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৭৮)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হত্যাকারী কেয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, হত্যাকৃত ব্যক্তি হত্যাকারীর মাথা ধরে রাখবে এবং বলবে, হে রব! আপনি একে প্রশ্ন করুন, কেন আমাকে হত্যা করেছে? (ইবন মাজাহ: ২৬২১, মুসনাদে আহমদ: ১/২৪০)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও ইরশাদ করেছেন- لَوْ أَنَّ أَهْلَ السّمَاءِ وَالأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبّهُمُ اللهُ فِي النارِ ‘আসমান ও জমিনবাসীর সকলে যদি একজন মুমিনের হত্যায় শরিক থাকে তবুও আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি: ১৩৯৮)

মানুষ হত্যা করে পার পাবার সুযোগ আল্লাহর আদালতে নেই। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। তার মধ্যে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে অভিশাপ দেবেন। তেমনিভাবে তিনি তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ভীষণ শাস্তি।’ (সুরা নিসা: ৯৩)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘(যে ব্যক্তি শিরক ও অন্যায় হত্যাকাণ্ড এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হবে) কেয়ামতের দিন তার শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং লাঞ্ছিত অবস্থায় তাতে সর্বদা থাকবে।’ (সুরা ফুরকান: ৬৯)

দুনিয়াতেও খুনিরা লাঞ্ছিত। অন্যায়ভাবে যারা কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তাদের ইবাদত কবুল করা হয় না। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশি হবে, তার কোনো ফরজ ও নফল ইবাদত আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না।’ (সহিহ বুখারি: ৪২২১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। খুন-খারাবির মতো ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করতে সর্বত্র কোরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শ্রীবরদীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

পরকালে হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে হবে

Update Time : ০৭:১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫

ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা জঘন্যতম অপরাধ। পবিত্র কোরআনের ভাষায়- পুরো মানবজাতিকে হত্যা করার মতো। ইরশাদ হয়েছে, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণ ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে দুনিয়ার সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সুরা মায়েদা: ৩২)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা।’ (বুখারি: ৬৮৭১, মুসলিম: ৮৮) অপর হাদিসে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলার নিকট পুরো বিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাওয়া অধিকতর সহজ একজন মুসলিম হত্যা অপেক্ষা।’ (তিরমিজি: ১৩৯৫; নাসায়ি: ৩৯৮৭; ইবনু মাজাহ: ২৬৬৮)

আল্লাহ তাআলার আদালতে কিয়ামতের দিন সকল অপরাধের বিচার হবে। সেখানে আল্লাহর হকের যেমন বিচার হবে, তেমনি বান্দার হকেরও বিচার হবে। বান্দার হক সম্পর্কিত যত মোকদ্দমা রয়েছে, তার মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার হবে রক্তপাত ও হত্যার। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- أَوَّلُ مَا يُقْضূى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ ‘কেয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকাদ্দমার ফয়সালা হবে, তা হলো রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৭৮)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হত্যাকারী কেয়ামতের দিন এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, হত্যাকৃত ব্যক্তি হত্যাকারীর মাথা ধরে রাখবে এবং বলবে, হে রব! আপনি একে প্রশ্ন করুন, কেন আমাকে হত্যা করেছে? (ইবন মাজাহ: ২৬২১, মুসনাদে আহমদ: ১/২৪০)

রাসুলুল্লাহ (স.) আরও ইরশাদ করেছেন- لَوْ أَنَّ أَهْلَ السّمَاءِ وَالأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبّهُمُ اللهُ فِي النارِ ‘আসমান ও জমিনবাসীর সকলে যদি একজন মুমিনের হত্যায় শরিক থাকে তবুও আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (তিরমিজি: ১৩৯৮)

মানুষ হত্যা করে পার পাবার সুযোগ আল্লাহর আদালতে নেই। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হবে জাহান্নাম। তার মধ্যে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হবেন ও তাকে অভিশাপ দেবেন। তেমনিভাবে তিনি তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ভীষণ শাস্তি।’ (সুরা নিসা: ৯৩)

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘(যে ব্যক্তি শিরক ও অন্যায় হত্যাকাণ্ড এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হবে) কেয়ামতের দিন তার শাস্তি বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হবে এবং লাঞ্ছিত অবস্থায় তাতে সর্বদা থাকবে।’ (সুরা ফুরকান: ৬৯)

দুনিয়াতেও খুনিরা লাঞ্ছিত। অন্যায়ভাবে যারা কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তাদের ইবাদত কবুল করা হয় না। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশি হবে, তার কোনো ফরজ ও নফল ইবাদত আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন না।’ (সহিহ বুখারি: ৪২২১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। খুন-খারাবির মতো ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করতে সর্বত্র কোরআন-সুন্নাহর বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।