সুদের টাকা না পেয়ে লোকজন নিয়ে সোহেল মিয়া নামে এক কৃষকের বাড়িঘর ভেঙে সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মসজিদের এক ইমামের বিরুদ্ধে। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার জামিরাকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অভিযোগ পেয়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে আমান উল্লাহ মুন্সির স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪২), সোহেল রানার স্ত্রী খাদিজা বেগম (২৬), বাবু মিয়া (২১) নয়ন মিয়া (১৯)।
জানা গেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার জামিরাকান্দা গ্রামের কৃষক সোহেল মিয়া ও তার স্ত্রী রিতা বেগম প্রতিমাসে ১০ শতাংশ সুদে এক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন পার্শ্ববর্তী বাড়ীর আমানুল্লাহ মুন্সির কাছ থেকে। আমানুল্লাহ মুন্সি পাঁচগাও বাজারে একটি জামে মসজিদের ইমাম। ঋণ গ্রহীতা নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন। কিছুদিন পূর্বে আসল টাকার ৫০ হাজার পরিশোধ করেন। তবে সুদ কমেনি মাসে ১০ হাজার। দাদন ব্যবসায়ীর দাবি, সুদে-আসলে তাকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে রিতা টাকা জোগাড় করতে চলে যায় ঢাকা স্বামী সন্তানের কাছে।
এদিকে সুযোগ বুঝে দাদন ব্যবসায়ী ইমাম হামলা চালায় রিতার বসতবাড়ীতে। ঘর ভেঙে টিনের বেড়া ও সিমেন্টের খামসহ বাড়ির সকল জিনিসপত্র লুট করে। গত দুইদিন ধরে এ ঘটনা চলতে থাকে। আমানুল্লাহ মুন্সি পাশের বাড়ীর সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে ভেঙে নেয় রিতার বসবাসের ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ঘরসহ রান্না ঘর। ঘরের আসবাব, কাঠ, টিন, খুটি, নলকূপ, গোসলখানা, গাছপালাসহ ঘরের মেঝের ইট পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ে যায় ওই দাদন ব্যবসায়ী। খবর পেয়ে রিতা ত্রিপল নাইনে এ কল দেয় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার একটি অভিযোগ দেয় থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হয়। ততক্ষণে রিতার বসতবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
এব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে থানায়। একইসাথে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 









