শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের ব্রীজপাড় এলাকায় সরকারি জমিতে অবৈধ স্থায়ী ভবন নির্মাণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন আনন্দ টিভি ও দৈনিক জনকণ্ঠের শেরপুর প্রতিনিধি এবং শেরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. মারুফুর রহমান (৪৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাতেই শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক মারুফ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মারুফ ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে আমেরিকা প্রবাসী এবিএম সিদ্দিক কর্তৃক সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে ইমারত নির্মাণের অভিযোগে সরজমিনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যায়। এসময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে গোলাম রব্বানী (টিটু) (৫০) ও সুরিহারা পাইকুড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের (মান্না) ছেলে এবং সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণাধীন ভবনের সাইড ম্যানেজার মোঃ মজনু মিয়ার (৩০) নেতৃত্বে ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাকে তিন ঘণ্টা আটক করে রাখে এবং নির্যাতন চালায়। হামলাকারীরা তার সংবাদ সংগ্রহের ক্যামেরা, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় নির্যাতনের কারনে মারুফ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা সাংবাদিক মারুফের মাথায়, চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করে এবং সরকারি জমি দখলের ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয় এবং একটি স্ট্যাম্পের ভিতর জোর পূর্বক সই নেয়।
পরে রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
সাংবাদিক মারুফুর রহমান জানান, “প্রায় এক যুগ আগে মাইনর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলাম। হামলার পর আমার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে গেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সরকারি জমি বেদখল হচ্ছে অথচ প্রশাসনের আমি কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। ২৭ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখনও মামলা (এফআইআর) নথিভুক্ত হয়নি। এছাড়াও অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরছে।”
এই ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, “বাদীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক : 









